তরুণদের মধ্যে কোলন ক্যানসারের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে মিলেনিয়াল প্রজন্ম—অর্থাৎ ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম—তাঁরা পঞ্চাশের দশকে জন্ম নেওয়া মানুষদের তুলনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে আশার কথা হলো, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এই ক্যানসার নিরাময়যোগ্য। তাই উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোলন ক্যানসারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ নিয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক পরিপাকতন্ত্র–বিশেষজ্ঞ ডা. জোসেফ সালহাব। কোলন ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এই মারাত্মক রোগ কম বয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। কোলন হলো বৃহদন্ত্রের সবচেয়ে বড় অংশ, আর এই ক্যানসার মলাশয় বা রেকটামেও দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসাক্ষেত্রে একে একত্রে ‘কোলোরেক্টাল ক্যানসার’ নামে চিহ্নিত করা হয়।

ব্রিটিশ জার্নাল অব সার্জারিতে (BJS) প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে—পঞ্চাশের দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। ফলে, বয়স যতই হোক, কিছু উপসর্গকে অবহেলা করা ঠিক নয়।
এই উপসর্গগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক পরিপাকতন্ত্র–বিশেষজ্ঞ ডা. জোসেফ সালহাব। জোসেফ সালহাব জানান, পায়ুপথে রক্তপাত কোলন ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গগুলোর একটি। মলের সঙ্গে রক্ত গেলে কিংবা টয়লেট পেপারে রক্ত দেখা দিলে বিষয়টাকে গুরুত্ব দিন। এ রক্তের রং উজ্জ্বল লাল হতে পারে কিংবা হতে পারে গাঢ় লাল। পেটব্যথাকে হালকাভাবে নেবেন না। তবে এটাও মনে রাখুন, অন্যান্য অনেক কারণে পেটব্যথা হতে পারে। যেমন ডায়রিয়া হলে যে কারও পেটব্যথা করতে পারে, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা একটু এলোমেলো হলেই পেটব্যথা হতে পারে, কিংবা মাসিকের সময় নারীদের তলপেটে ব্যথা হতে পারে। সব সময় ক্লান্ত লাগাও ভালো ব্যাপার নয়। ঠিকঠাক বিশ্রাম নেওয়ার পরও ক্লান্ত, অবসন্ন বা দুর্বল লাগলে কোনো রোগের উপসর্গ কি না, তা খুঁজে বের করা জরুরি। অনেকে এমন উপসর্গকে একেবারেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু জোসেফ সালহাব এ ধরনের উপসর্গের বিষয়ে সতর্ক করলেন। মলত্যাগের ধরনটাও খেয়াল রাখুন। মলত্যাগের ধরনের পরিবর্তন ভালো লক্ষণ নয়, বিশেষত যা কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে। এই পরিবর্তন কেমন হতে পারে, জানেন? ২৪ ঘণ্টায় কেউ যতবার মলত্যাগ করেন, তার চেয়ে কম বা বেশিবার মলত্যাগের প্রয়োজন হতে পারে তাঁর। কারও কোষ্টকাঠিন্য বাড়তে পারে, কারও হতে পারে ডায়রিয়া। এ ধরনের পরিবর্তন বেশ কিছুদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামান্দ্য, রাতে শরীর ঘেমে যাওয়া কিংবা প্রায়ই গায়ে জ্বর থাকাও কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। অবশ্য অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। কারণটা জানতে চিকিৎসক আপনাকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেবেন।
৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কোলন ক্যানসার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে, জানাচ্ছেন ব্রিটিশ জার্নাল অব সার্জারির গবেষক সারা চার। খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং জিনগত কারণ এতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই ছোটখাটো উপসর্গকে অবহেলা করেন, ফলে ৪০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্যানসার গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
পরিবারে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে বা উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি—কারণ দ্রুত শনাক্ত হলে কোলন ক্যানসার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।

