ফেনীর পরশুরাম সীমান্তসংলগ্ন কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে বাঁধের সুরক্ষায় কংক্রিটের ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নদীর দুই পাশের বাঁধের উচ্চতা ও শক্তিমত্তায় পার্থক্য থাকলে পানির প্রবাহের চাপে বাংলাদেশের অংশে ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গত ৬ নভেম্বর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া-সংলগ্ন আমজাদনগর এলাকায় ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর বিজিবি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায়। ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম জানান, বিজিবির উদ্যোগের পর কাজটি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
এদিকে, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের অংশের বাঁধের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, ভারতীয় অংশে ব্লক স্থাপনের কারণে বাংলাদেশের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাংলাদেশের অংশে বাঁধের কয়েকটি জায়গা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া ও আশপাশের জনবসতি এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত মেরামত এবং দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভারতীয় অংশে কাজ স্থগিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে কহুয়া নদীর বাংলাদেশের অংশের বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।