মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ বাজার তথ্যে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-এর দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ দশমিক ৪২ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা–পাল্টা হামলার কারণে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় জ্বালানি উৎপাদক দেশগুলোও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় রয়েছে।
একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি ভোক্তা চীন তাদের কোম্পানিগুলোকে নতুন পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বলেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করছে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন-এর জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স জানিয়েছেন, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গ্যাসের দাম অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

