প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল জনজীবন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা পৌঁছেছে বিপজ্জনক পর্যায়ে। বাড়ছে হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু গরমই নয়—আমাদের দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসই ডেকে আনছে বড় ধরনের বিপদ।
চিকিৎসকদের মতে, এই তীব্র গরমে অনেকেই বাইরে থেকে এসেই বরফ ঠান্ডা পানি পান করছেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এমনকি অসুস্থতাও দেখা দিতে পারে। তাই ঠান্ডা পানির বদলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ধীরে ধীরে পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া অনেকেই ঘেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোসল করছেন, যা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরে থেকে ফিরে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে তারপর গোসল করা উচিত।
অতিরিক্ত ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে দীর্ঘ সময় থাকা এবং হঠাৎ গরমে বের হয়ে পড়াও ঝুঁকিপূর্ণ। এতে শরীর বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পানিশূন্যতাও এই সময়ে বড় একটি সমস্যা। অনেকেই তেষ্টা না পেলেও পানি পান করেন না, যা হিট স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। তাই নিয়মিত পানি ও তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করা জরুরি।
অন্যদিকে, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত সফট ড্রিংক গ্রহণ শরীরকে আরও গরম করে তোলে এবং পানিশূন্যতা বাড়ায়। এসব খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া। এই সময় সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সরাসরি শরীরে প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ছোট ছোট ভুলই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই গরমে সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই পারে বিপদ থেকে রক্ষা করতে।তীব্র এই গরমে সুস্থ থাকতে নিয়ম মেনে চলুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং অপ্রয়োজনে রোদে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

