বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে হান্টাভাইরাস। বিশেষ করে আর্জেন্টিনায় সাম্প্রতিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস মানবদেহে গুরুতর শ্বাসতন্ত্র ও কিডনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনা থেকে স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করা প্রমোদতরি ‘এমভি হোন্ডিয়াস’-এ ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, জাহাজটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। কেপ ভার্দ থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করা এই প্রমোদতরিতে ২৩টি দেশের ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার আগেই বেশ কয়েকজন যাত্রী বিভিন্ন বন্দরে নেমে যান।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মল, প্রস্রাব বা লালা থেকে বাতাসে ছড়িয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। দূষিত কণা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, ভাইরাসটির কিছু ধরন হাঁচি–কাশি, লালা ও শ্লেষ্মার মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। খুব কাছ থেকে কাশি বা হাঁচি, চুম্বন কিংবা একই পানীয় ভাগ করে খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনায় ভ্রমণের সময় দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়ে পরে জাহাজে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেন।

চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তির শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা দেখা দেয়। পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বমি, নিম্ন রক্তচাপ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং কিডনি বিকলতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ভাইরাসটি প্রধানত দুটি জটিল রোগ সৃষ্টি করে—ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ এবং কিডনি জটিলতাসহ রক্তক্ষরণজনিত জ্বর। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্র আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।বর্তমানে ভাইরাসটির নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা অনুমোদিত টিকা নেই। চিকিৎসকেরা উপসর্গ অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ এড়াতে বাড়ি ও কর্মস্থলে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ইঁদুরের মল বা দূষিত স্থান পরিষ্কারের সময় মুখোশ ও সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

