যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারীরা। গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে বৃষ্টি ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পর নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে লিমনের মুঠোফোনের অবস্থান কোর্টনি ক্যাম্পবেল কজওয়ে ও স্যান্ড কি পার্ক এলাকায় শনাক্ত হয়, যেখানে একই সময়ে হিশামের ব্যবহৃত গাড়ির চলাচলের তথ্যও পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তার বয়ানে অসংগতি এবং হাতে ব্যান্ডেজ থাকা সন্দেহ আরও বাড়ায়।
তদন্তে তার বাসায় অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার করার চিহ্ন, রক্তের দাগ এবং ময়লা পিষার যন্ত্র থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তমাখা কাপড়, মোজা ও আঠালো ফিতা মামলাটিকে আরও জোরালো করে। এছাড়া নিখোঁজ হওয়া গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী পরে ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। একটি রসিদে দেখা যায়, ঘটনার দিন রাতে খাবার সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিষ্কারক সামগ্রী কেনা হয়েছিল, যা আলামত মুছে ফেলার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। রাসায়নিক পরীক্ষায় বাসার ভেতরে রক্তের ছাপ ও মানুষের দেহের আকৃতির চিহ্নও পাওয়া গেছে।সূত্র : স্কাই নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ান।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায় তার মুঠোফোনের অনুসন্ধান ইতিহাসে, যেখানে মরদেহ গোপনের উপায় এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সংজ্ঞা সম্পর্কে অনুসন্ধানের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের স্পষ্ট উদাহরণ। বর্তমানে হিশাম আবুঘরবেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

