নেত্রকোণার মদনে ১১ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান সাগরকে আদালত তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। সাত মাস পর শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলামের আদালতে অভিযুক্তকে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে র্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটির পর শিক্ষক সাগর শিশুটিকে মসজিদ পরিষ্কারের কাজে পাঠান। পরে এক কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ভয় ও সামাজিক লজ্জার কারণে শিশুটি বিষয়টি গোপন রাখে। তবে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে এবং পরীক্ষা করে তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ঘটনার পর শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এই ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা, এবং অপরাধ দমন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। একইসাথে সত্য প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

