আফগানিস্তান বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চরম দারিদ্র্য, বেকারত্ব, খাদ্য সংকট ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে দেশটির লাখো মানুষ অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক পরিবার বেঁচে থাকার তাগিদে সন্তান বিক্রি করা কিংবা অল্প বয়সে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তুলে দেওয়ার মতো মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
দেশটির ঘোর প্রদেশের রাজধানী চাগচারণে প্রতিদিন ভোর থেকেই শত শত মানুষ কাজের আশায় ধুলোমাখা চত্বরে জড়ো হন। একটি দিনের কাজই নির্ধারণ করে দেয়, সেদিন তাদের পরিবার খাবার পাবে কি না। তবে অধিকাংশ দিনই তারা কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জুমা খান জানান, গত ছয় সপ্তাহে তিনি মাত্র তিন দিন কাজ পেয়েছেন। তার ভাষায়, টানা কয়েক রাত তার সন্তানরা না খেয়ে ঘুমিয়েছে এবং খাবার কেনার জন্য তাকে প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার নিতে হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। বর্তমানে প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। অপুষ্টি, অনাহার ও চিকিৎসার অভাবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চাগচারণের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী খরা, দুর্বল অর্থনীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় সংকট গভীরতর হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, জরুরি আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধি না পেলে আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

