মেসির গোলের গল্পে নতুন কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ নতুন মঞ্চে গেলেও পুরোনো অভ্যাসটা ঠিকই সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে চার গোলের ম্যাচটি সেই পরিচিত দৃশ্যেরই আরেকটি উদাহরণ।
৯২৭ গোল—সংখ্যাটা দেখলেই বোঝা যায়, কেন মেসিকে আলাদা করে দেখা হয়। পেশাদার ক্যারিয়ারে ১ হাজার ১৭১ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে ৫৬০ ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। কিন্তু বাকি ম্যাচগুলোতে তাঁর গোলের ধারাবাহিকতা অবিশ্বাস্য। ৩৬৬ ম্যাচে একটি করে, ১৮৩ ম্যাচে দুটি করে গোল করেছেন। আর অন্তত তিন গোলের ম্যাচ রয়েছে ৫৩টি।
এর সঙ্গে যোগ করলে আরও চমকপ্রদ একটি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। মেসি সাতবার এক ম্যাচে চার গোল করেছেন, পাঁচ গোল করেছেন দুবার। অর্থাৎ এক ম্যাচে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।
এই ধারার শুরু অবশ্য আজকের নয়। ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে চার গোল করে ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি নজির রেখেছিলেন মেসি। তবে ২০১২ সাল ছিল আরও বিস্ময়কর।
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে চার গোল দিয়ে বছরটি শুরু করেছিলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ পর বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সেই কীর্তি এখনো আলাদা হয়ে আছে। একই বছর এস্পানিওলের বিপক্ষেও চার গোল করেন তিনি।

এক বছরে তিনটি ম্যাচে চার কিংবা তার বেশি গোল—মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য অধ্যায়গুলোর একটি এটি।
পরের বছর ওসাসুনার বিপক্ষে আবারও চার গোল। এরপর ২০১৭ সালে এইবারের বিপক্ষে একই ঘটনা। তিন বছর পর আবার সেই এইবারের বিপক্ষেই চার গোল করেন মেসি। কোনো কোনো দলের বিপক্ষে তাঁর পরিসংখ্যান দেখলে মনে হয়, প্রতিপক্ষের নামটিই যেন তাঁর গোলের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণা।
জাতীয় দলের জার্সিতেও একই চিত্র। ২০২২ সালের ৫ জুন এস্তোনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে একাই পাঁচ গোল করেন তিনি। এক ম্যাচে অন্তত চার গোল করার ক্ষেত্রে এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের নবম কীর্তি।
হ্যাটট্রিকের সংখ্যাটিও কম বিস্ময়কর নয়। সব মিলিয়ে ৬২ বার তিন বা তার বেশি গোল করেছেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ৪৮টি হ্যাটট্রিক তাঁর রেকর্ডের সবচেয়ে বড় অংশ। আর্জেন্টিনার হয়ে করেছেন ১১টি, আর ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি।
কোনো কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই রেকর্ড আরও উজ্জ্বল। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে চারটি হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। আতলেতিকো মাদ্রিদ, এস্পানিওল, দেপোর্তিভো লা করুনিয়া ও ওসাসুনার বিপক্ষে রয়েছে তিনটি করে হ্যাটট্রিক।
আর্জেন্টিনার হয়েও একাধিক দেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, গুয়াতেমালা, পানামা, ইকুয়েডর, হাইতি, বলিভিয়া, এস্তোনিয়া, কুরাসাও ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে এসেছে সেই কীর্তি।
মেসির ক্যারিয়ারে তাই ৯২৭ গোল শুধু একটি সংখ্যা নয়। এটি দীর্ঘ সময় ধরে একই মান ধরে রাখার প্রমাণ। বার্সেলোনার নীল-লাল থেকে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, আর সেখান থেকে মায়ামির গোলাপি—জার্সির রং যতবার বদলেছে, তাঁর ঠিকানা যতবার পাল্টেছে, গোল করার সেই পুরোনো স্বভাবটি ততবারই ফিরে এসেছে।
মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে চার গোলের রাতও সেই দীর্ঘ তালিকায় যোগ হলো। বয়স তাঁকে থামাতে পারেনি; বরং নতুন অধ্যায়ে গিয়েও মেসি বারবার দেখাচ্ছেন—গোল করার ক্ষেত্রে সময়ের প্রভাব তাঁর ওপর এখনও খুব সামান্যই।

