খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

নিয়মিত ব্যায়ামে সুস্থ জীবন, কমে হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ
নিয়মিত ব্যায়ামে সুস্থ জীবন, কমে হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম। বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বাড়ছে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা ঘরে সাধারণ ব্যায়াম শরীর ও মন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ অথবা ৭৫ থেকে ১৫০ মিনিট উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ করা উচিত। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নিয়মিত ব্যায়ামের অন্যতম প্রধান উপকারিতা হলো হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করা। শারীরিক কার্যকলাপ রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে ব্যায়াম শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি কমাতেও এটি কার্যকর হতে পারে।

শারীরিক উপকারিতার পাশাপাশি ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে, মেজাজ ভালো রাখতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ পেশি ও হাড়ের শক্তি বজায় রাখা, ভারসাম্য উন্নত করা এবং স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য ব্যায়াম শুরু করতে ব্যয়বহুল সরঞ্জাম বা জিমের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা এড়িয়ে চলা, সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে যাঁদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে বা শারীরিক সক্ষমতা সীমিত, তাঁদের ব্যায়ামের ধরন নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম সুস্থ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে, শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং মানসিক সুস্থতা উন্নত করতে সহায়তা করে। তাই সুস্থ ও সক্রিয় জীবন নিশ্চিত করতে ব্যায়ামকে সাময়িক উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) — শারীরিক কার্যকলাপ ও স্বাস্থ্য।

 

advertisement
advertisement

মিরপুরে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামা শুরু, স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
মিরপুরে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামা শুরু, স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে যানবাহন চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরের আগে মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ কিছু স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন থামানো বন্ধ রাখে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মিরপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাত্রীরা এসব স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে ওঠানামা করতে পারেননি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুপুরের দিকে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোতে আবারও ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু হয়। পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের চলাচলও স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত ছিল।

মেট্রোরেল চলাচল ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী মানুষ এবং গণপরিবহনের যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নিয়মিত যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্ক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, উদ্বেগে শিল্প খাত

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, উদ্বেগে শিল্প খাত

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে দেশের বিভিন্ন পোশাকশিল্প এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গাজীপুর, আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে কয়েকটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমেও।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি নিয়মিত বেতন পরিশোধ ও কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের নির্ধারিত সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি পর্যালোচনায় গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের একটি নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বুধবার বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাজ করছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে অসন্তোষ কমানো কঠিন হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এ শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করে মালিকপক্ষ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সমাধান এখন সময়ের দাবি।

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশিদের পারফরম্যান্স: ব্যাট হাতে উজ্জ্বল আরিফুল ও সাইফ

Mahir Alam
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
নেপাল প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশিদের পারফরম্যান্স: ব্যাট হাতে উজ্জ্বল আরিফুল ও সাইফ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে চলছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) জমজমাট আসর। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ১০ জন ক্রিকেটার বিভিন্ন দলের হয়ে মাঠে নেমেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করছেন, কেউ বল হাতে নজর কাড়ছেন। আবার কয়েকজন এখনো নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে ফিরছেন


আইসিসির স্বীকৃতিতে নতুন মাত্রা

২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা নেপাল প্রিমিয়ার লিগ এবার তৃতীয় আসরে পা রেখেছে। গত ১৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) স্বীকৃতি পাওয়ায় টুর্নামেন্টটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন ডেভিড ওয়ার্নার, আন্দ্রে রাসেল, ডেভিড ম্যালান, মঈন আলী ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও রয়েছেন এই তারকাবহরে। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)।


আট দল নিয়ে ৩২ ম্যাচের আয়োজন

এনপিএলের এবারের আসরে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি শিরোপার লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। দলগুলো হলো বিরাটনগর কিংস, চিতওয়ান রাইনোস, জনকপুর বোল্টস, কর্নালি ইয়াকস, কাঠমান্ডু গুর্খাস, লুম্বিনি লায়ন্স, পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স ও সুদূরপশ্চিম রয়্যালস।

লিগ পর্বে প্রতিটি দল সাতটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল প্লে-অফে জায়গা পাবে। লিগ ও প্লে-অফ মিলিয়ে এবারের আসরে মোট ৩২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।


বাংলাদেশিদের মধ্যে এগিয়ে আরিফুল ও সাইফ

বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে সবচেয়ে ভালো করছেন আরিফুল ইসলাম। কর্নালি ইয়াকসের হয়ে তিন ম্যাচে ১১৯ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১৮৮.৮৮, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রেখেছে।

তালিকায় বাংলাদেশের আরেক প্রতিনিধি সাইফ হাসানও ভালো অবস্থানে রয়েছেন। জনকপুর বোল্টসের হয়ে তিন ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১১২ রান। সর্বশেষ ম্যাচে ৭১ রানের দারুণ ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।

আরিফুল ও সাইফের ধারাবাহিক ব্যাটিং বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে অন্য বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাও নিজেদের পারফরম্যান্সে আলো ছড়াতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।