মক্কামুখী হুতি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি আরবের

Date:

Share post:

সৌদি আরবের দাবি, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি শনাক্ত করে মক্কার আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার চেষ্টা করার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা।

হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ ঘটনা সামনে এসেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি শত্রু ড্রোন শনাক্ত করে। সেটি সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়।

আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য ছিল মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষতি করা। তিনি বলেন, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিসহ মুসলমানদের পবিত্র স্থান এবং সেখানে থাকা মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ঘটনার পর মক্কায় সাময়িকভাবে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয় তাইফ ও জেদ্দাতেও। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মক্কার সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৭ সালের পর মক্কাকে ঘিরে এ ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতার ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। তাদের বক্তব্য, পবিত্র স্থানগুলো তাদের হামলার লক্ষ্য নয়।

ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার প্রকাশিত হুতিদের এক বিবৃতিতে মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হুতিদের সামরিক সূত্র অভিযোগটিকে ‘ভুল তথ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, ইয়েমেন থেকে মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তারা স্পষ্টভাবে নাকচ করছে।

এদিকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরেও হুতিদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সোমবার খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় ১৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি সাতটি বাড়ি ও দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জোটের দাবি।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত রয়েছে। ২০১৫ সালে হুতিরা রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষের পুরোনো বিরোধ আবারও তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি এবং ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই।

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের পশ্চিম উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার কারণে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতিও চাপে পড়েছে। মোখা বন্দরনগরী ও বাব আল-মানদেবের কাছে মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে প্রভাব আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।

অন্যদিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের মুখে রয়েছে।

Related articles

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে ভ্রমণ...

নটর ডেম কলেজে একাদশে ভর্তি: আজ ভাইভা, চূড়ান্ত তালিকা মঙ্গলবার

নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া এখন মৌখিক পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছেছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা...

বিয়ের আনন্দ শেষে কনের ভাই-বোনসহ সড়কে প্রাণ গেল ৪ জনের

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কনের ভাই-বোনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায়...

ফেল থেকে পাস ৪ হাজার ৮৫ এসএসসি শিক্ষার্থী

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে...