খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ইতালির গ্রন্থাগারে নবম শতাব্দীর পাণ্ডুলিপিতে মিলল ইংরেজি ভাষার আদি কবিতার মূল পাঠ

Super Admin
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইতালির গ্রন্থাগারে নবম শতাব্দীর পাণ্ডুলিপিতে মিলল ইংরেজি ভাষার আদি কবিতার মূল পাঠ

আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের একদল গবেষক ইতালির রোমের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে নবম শতাব্দীর একটি বইয়ের ডিজিটাল কপি ঘাঁটছিলেন

হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ কীভাবে ইংরেজিতে কথা বলত, তা জানতে আগ্রহী? আধুনিক ইংরেজির সঙ্গে প্রাচীন ইংরেজির বিস্তর ফারাক ছিল। সম্প্রতি গবেষকদের এক যুগান্তকারী আবিষ্কার তাঁদের বিস্মিত করেছে। ইতালির একটি প্রাচীন গ্রন্থাগারের বইয়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ইংরেজি ভাষার প্রাচীনতম কবিতাটি এখন মূল রূপে উন্মোচিত হয়েছে।

আজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছর আগে ইংল্যান্ডের হুইটবি অঞ্চলের এক সাধারণ রাখাল, ক্যাডমন, এই কবিতার রচয়িতা। তিনি কোনো প্রথাগত কবি বা লেখক ছিলেন না; তাঁর দিন কাটত খামারের কাজে। কিন্তু একদিন এক রাতে তিনি এক স্বপ্ন দেখেন, যা থেকে জেগে উঠে তিনি অদ্ভুত এক অনুপ্রেরণা লাভ করেন এবং আপন মনে একটি কবিতা রচনা করেন। মাত্র ৯ লাইনের এই কবিতাটিই আজ 'ক্যাডমন্স হিমন' বা 'ক্যাডমনের স্তবগান' নামে পরিচিত এবং এটি ইংরেজি ভাষার প্রাচীনতম কবিতা হিসেবে ইংরেজি সাহিত্যের সূচনা বলে বিবেচিত হয়।

ক্যাডমন নিজে অবশ্য তাঁর কবিতাটি লিখে যাননি। তাহলে এটি কীভাবে এতকাল টিকে ছিল? ইংল্যান্ডের সন্ন্যাসী ও পণ্ডিত ভেনেরাবল বিড তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘একলেসিয়াস্টিক্যাল হিস্ট্রি অব দ্য ইংলিশ পিপল’-এ ক্যাডমনের এই কবিতার উল্লেখ করেছিলেন। তবে বিডের বইয়ের বিভিন্ন সংস্করণে কবিতাটি মূলত লাতিন ভাষায় লিপিবদ্ধ ছিল, এবং প্রাচীন ইংরেজি অনুবাদটি হয়তো পরে কেউ পৃষ্ঠার এক কোণে যোগ করে দিয়েছিলেন বলে মনে করা হতো।

তবে সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের গবেষকদের একটি দল ইতালির রোমের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত নবম শতাব্দীর একটি বইয়ের ডিজিটাল কপি পরীক্ষা করার সময় এক অভাবনীয় আবিষ্কার করেন। তাঁরা দেখতে পান যে, বইটির মূল লেখার অংশ হিসেবেই প্রাচীন ইংরেজিতে ক্যাডমনের সেই কবিতাটি লেখা রয়েছে! এটি কোনো পরবর্তী সংযোজন নয়, বরং মূল পাণ্ডুলিপিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। গবেষক এলিসাবেত্তা মানিয়ান্তি এই আবিষ্কার প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের কথা বলার ভাষা হারিয়ে গিয়েছিল! প্রথমবার দেখে আমরা নিজেদের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।" এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের খবর ‘আর্লি মেডিওভ্যাল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ইটস নেইবারস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন ইংরেজি ছিল আধুনিক ইংরেজির আদি রূপ, যা মধ্যযুগের শুরুর দিকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গবেষক মার্ক ফকনার ব্যাখ্যা করেন, "প্রাচীন ইংরেজিতে লেখা অন্যান্য যে সকল রচনা আমরা আজ পর্যন্ত পেয়েছি, সেগুলোর প্রায় সবই দশম বা একাদশ শতাব্দীর। কিন্তু নবম শতাব্দীর এই বইতে পাওয়া ক্যাডমনের কবিতাটি আমাদের প্রাচীন ইংরেজি ভাষা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। পণ্ডিত বিড তাঁর মূল বইয়ে কবিতাটি লাতিন ভাষায় লিখেছিলেন। কিন্তু এই নতুন পাণ্ডুলিপি থেকে বোঝা যায়, বিড তাঁর বই শেষ করার ১০০ বছরের মধ্যেই মূল প্রাচীন ইংরেজি কবিতাটি আবার লাতিন লেখার ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, সে যুগের পাঠকরাও ইংরেজি ভাষাকে অবহেলা করতেন না।"

কবিতাটি মূলত সৃষ্টিকর্তার মহিমা বর্ণনা করে লেখা, যিনি মানবজাতির জন্য এই চমৎকার পৃথিবী তৈরি করেছেন। কবিতাটির আধুনিক ইংরেজি রূপ নিচে দেওয়া হলো:
‘Now let us praise heaven-kingdoms guardian,
The maker's might and his mind's thoughts,
The work of the glory-father—of every wonder,
Eternal Lord. He established a beginning.
He first shaped for men's sons
Heaven as a roof, the holy creator
Then middle-earth mankind's guardian,
Eternal Lord, afterwards prepared
The earth for men, the Lord Almighty.’

বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায়:
‘চলো, এখন আমরা স্বর্গরাজ্যের রক্ষাকর্তার প্রশংসা করি,
সেই স্রষ্টার শক্তি এবং তাঁর মনের ভাবনার,
মহিমান্বিত পিতার কাজ—সকল বিস্ময়ের,
অনন্ত ঈশ্বর। তিনিই একটি সূচনা করেছিলেন।
তিনি প্রথমে মানবসন্তানদের জন্য আকার দিলেন
ছাদ হিসেবে এই স্বর্গের, সেই পবিত্র স্রষ্টা
তারপর এই মধ্যপৃথিবীর, মানবজাতির রক্ষাকর্তা,
অনন্ত ঈশ্বর, এরপর প্রস্তুত করলেন
মানুষের জন্য এই পৃথিবী, সেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।’

এই তথ্য সায়েন্টিফিক আমেরিকান সূত্র থেকে প্রাপ্ত।

advertisement
advertisement

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

দেশের সমুদ্রবাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাগেরহাটের এ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরটির আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রকল্পের আওতায় বন্দরে ১০ ও ১১ নম্বর দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক কনটেইনার ইয়ার্ড, উন্নত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ৪৯টি আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এসব সুবিধা চালু হলে বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে মোংলা বন্দর।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই উদ্যোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে আশপাশের এলাকায় শিল্পকারখানা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি এবং কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে মোংলা বন্দর ভবিষ্যতে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ের দিকে ঢাকার কূটনৈতিক নজর

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ের দিকে ঢাকার কূটনৈতিক নজর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে বেইজিংয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে ঢাকা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

বৈঠকে লিউ হাইশিয়াং বাংলাদেশের বক্তব্য ও প্রত্যাশা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বৈঠকেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীনের কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে এগোয়নি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাখাইন রাজ্যের সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতা এ উদ্যোগের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তার চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ থাকায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির কূটনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রত্যাবাসন টেকসই করতে হলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের অধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা এবং স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা, চীনের কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হলে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশও দীর্ঘদিনের মানবিক ও আর্থসামাজিক চাপ কমিয়ে আনার পথ খুঁজে পাবে।

১২ দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে সরকারের বিশেষ অনুমোদন বাধ্যতামূলক

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
১২ দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে সরকারের বিশেষ অনুমোদন বাধ্যতামূলক

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আরোপ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১২টি দেশে চাকরির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি বা অনুমোদন নিতে হবে। এই অনুমোদন ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নামে বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

৪ নভেম্বর জারি করা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। পরদিন নয়, একই দিন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মূল নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদনের বাধ্যবাধকতার আওতায় রয়েছে সার্বিয়া, মলদোভা, বেলারুশ, কঙ্গো, রাশিয়া, জাপান, ইরাক, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইউক্রেন ও লিবিয়া।

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি, শোষণ ও মানবপাচারের ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়টি এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নেওয়া এবং সেখানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন নিয়মের ফলে নির্ধারিত দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র ও অনুমোদন যাচাইয়ের গুরুত্ব আরও বাড়বে। বিদেশগামী কর্মীদেরও কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগকর্তার পরিচয়, চাকরির চুক্তি, বেতন-ভাতা, ভিসার ধরন এবং সরকারি অনুমোদনের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শুধু ভিসা বা চাকরির প্রস্তাব থাকলেই বিদেশযাত্রা নিরাপদ ও বৈধ—এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।