খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

১২ দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে সরকারের বিশেষ অনুমোদন বাধ্যতামূলক

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
১২ দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে সরকারের বিশেষ অনুমোদন বাধ্যতামূলক

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আরোপ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১২টি দেশে চাকরির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি বা অনুমোদন নিতে হবে। এই অনুমোদন ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নামে বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

৪ নভেম্বর জারি করা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। পরদিন নয়, একই দিন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মূল নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদনের বাধ্যবাধকতার আওতায় রয়েছে সার্বিয়া, মলদোভা, বেলারুশ, কঙ্গো, রাশিয়া, জাপান, ইরাক, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইউক্রেন ও লিবিয়া।

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি, শোষণ ও মানবপাচারের ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়টি এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নেওয়া এবং সেখানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন নিয়মের ফলে নির্ধারিত দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র ও অনুমোদন যাচাইয়ের গুরুত্ব আরও বাড়বে। বিদেশগামী কর্মীদেরও কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগকর্তার পরিচয়, চাকরির চুক্তি, বেতন-ভাতা, ভিসার ধরন এবং সরকারি অনুমোদনের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শুধু ভিসা বা চাকরির প্রস্তাব থাকলেই বিদেশযাত্রা নিরাপদ ও বৈধ—এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

advertisement
advertisement

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

দেশের সমুদ্রবাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাগেরহাটের এ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরটির আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রকল্পের আওতায় বন্দরে ১০ ও ১১ নম্বর দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক কনটেইনার ইয়ার্ড, উন্নত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ৪৯টি আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এসব সুবিধা চালু হলে বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে মোংলা বন্দর।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই উদ্যোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে আশপাশের এলাকায় শিল্পকারখানা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি এবং কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে মোংলা বন্দর ভবিষ্যতে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ের দিকে ঢাকার কূটনৈতিক নজর

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ের দিকে ঢাকার কূটনৈতিক নজর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে বেইজিংয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে ঢাকা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

বৈঠকে লিউ হাইশিয়াং বাংলাদেশের বক্তব্য ও প্রত্যাশা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বৈঠকেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীনের কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে এগোয়নি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাখাইন রাজ্যের সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতা এ উদ্যোগের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তার চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ থাকায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির কূটনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রত্যাবাসন টেকসই করতে হলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের অধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা এবং স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা, চীনের কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হলে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশও দীর্ঘদিনের মানবিক ও আর্থসামাজিক চাপ কমিয়ে আনার পথ খুঁজে পাবে।

হামের টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
হামের টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন

দেশে হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, কথিত অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেছে সরকার। বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমান। অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মইনুল ইসলাম।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্য কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নির্ধারণ করা হবে।

তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের তলব, জিজ্ঞাসাবাদ এবং দেশের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের ক্ষমতা থাকবে কমিশনের। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে এ ধরনের জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করবে কমিশন।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।