শান্তির নোবেলের জন্য মরিয়া ট্রাম্প, কিন্তু আদৌ কি মিলবে এই স্বীকৃতি?

Date:

Share post:

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই পুরস্কারের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। এবারের গাজা যুদ্ধ বন্ধে তার তিন ধাপের ‘শান্তি পরিকল্পনা’ ও অতীতে ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মত উদ্যোগকে তিনি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে। এর আগেই ট্রাম্প প্রকাশ্য প্রচারণা ও আন্তর্জাতিক লবিং জোরদার করেছেন। কূটনৈতিকভাবে নরওয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা। এমনকি জাতিসংঘ ও সামরিক ঘাঁটিতেও বক্তব্য রেখেছেন এই মর্মে যে, তিনি শান্তির জন্য বাস্তব কাজ করেছেন, অথচ নোবেল পাচ্ছেন না। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা যত উচ্চাকাঙ্ক্ষীই হোক না কেন, বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও কৌশলগত জটিলতা রয়েছে। হামাস এখনো পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়নি, আর গাজায় হামলার মধ্যেই শান্তি পরিকল্পনার ঘোষণা হয়েছে। ফলে অনেকেই এটি বাস্তব শান্তির চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা বলেই দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি রাজনৈতিক চাপ বা প্রকাশ্য প্রচারণার প্রভাবে সিদ্ধান্ত নেয় না। বরং তারা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান এবং গঠনমূলক সংলাপের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করে। ট্রাম্পের অতীত বিতর্কিত অবস্থান—যেমন জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকার, জাতিসংঘের প্রতি বিরূপ মনোভাব—তাকে সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকায় পিছিয়ে দিতে পারে। তবে ট্রাম্পের মনোনয়ন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ও করপোরেট নেতা তাকে সমর্থনও দিয়েছেন। তবুও, বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত হিতে-বিপরীত হতে পারে।

অন্যদিকে, এবারের শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে রয়েছেন রুশ বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া এবং সুদানে মানবিক সহায়তায় কাজ করা সংস্থাগুলো। যদিও ট্রাম্প বাজিকরদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন, বাস্তবে তার জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়।

নোবেল কমিটি রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হলেও আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক টানাপড়েন তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০০৯ সালে ওবামাকে পুরস্কার দিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে তারা এখন অনেক বেশি সতর্ক। সব মিলিয়ে, শান্তির এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি কি ট্রাম্পের ঝুলিতে যাবে, না কি আলোচনা হয়েই থেমে যাবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related articles

হঠাৎ চুপচাপ? মেয়েশিশুর আচরণে লুকিয়ে থাকতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে থাকায় শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,...

বেঁচে থাকার তাগিদে সন্তান বিক্রি করছেন আফগানরা

আফগানিস্তান বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চরম দারিদ্র্য, বেকারত্ব, খাদ্য সংকট ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে দেশটির...

অধ্যক্ষের ঘুষিতে দাঁত ভাঙল কর্মচারীর

ঝালকাঠির নলছিটিতে একটি বেসরকারি কলেজে অধ্যক্ষের মারধরে একই প্রতিষ্ঠানের এক কম্পিউটার অপারেটরের দুই দাঁত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।...

যেসব পশু দিয়ে কোরবানি হবে না জেনে নিন

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করেন। ইসলামি শরিয়তে...