খালেদা জিয়ার জীবন কেবল একটি রাজনৈতিক জীবনী নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার এক দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তাঁর পুরো জীবনটাই ছিল লড়াইয়ের—স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই এবং ব্যক্তিগতভাবে অসুস্থতা ও নির্যাতনের মধ্যেও আপসহীন থাকার লড়াই।

একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে নয়, বরং নিজ যোগ্যতা, নেতৃত্ব ও সাহস দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, কারাবরণ, মিথ্যা মামলা—কোনো কিছুই তাঁকে আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগলেও খালেদা জিয়া কখনো নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। মৃত্যুর মুখোমুখি অবস্থাতেও তাঁর দৃঢ়তা ছিল অটুট। ক্ষমতার লোভ কিংবা ভয় তাঁকে মাথানত করাতে পারেনি। এ কারণেই তিনি শুধু একজন নেত্রী নন—তিনি প্রতিরোধের প্রতীক, সাহসের প্রতীক।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর লক্ষ লক্ষ কর্মীর কাছে খালেদা জিয়া একজন রাজনৈতিক নেত্রীর চেয়েও বেশি কিছু। তিনি অনুপ্রেরণা। আমরা গর্ব করে বলতে পারি—আমরা খালেদা জিয়ার কর্মী। কারণ তাঁর রাজনীতি ছিল আত্মমর্যাদার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর রাজনীতি।
আজ যখন তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা মনে করি, তখন হৃদয় ভারী হয়ে আসে। একই সঙ্গে বুক ভরে ওঠে গর্বে—এমন একজন নেত্রী আমাদের ইতিহাসে আছেন, যিনি জীবনের শেষ প্রান্তেও আদর্শ বিসর্জন দেননি।
আজ আমরা তাঁর জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাঁকে পূর্ণ সুস্থতা দান করেন, তাঁর রুহ ও মনকে শান্তিতে রাখেন এবং তাঁর সংগ্রামী জীবনের প্রতিটি ত্যাগ কবুল করেন—আমিন।
খালেদা জিয়া থাকবেন ইতিহাসে, থাকবেন গণতন্ত্রের লড়াইয়ে, থাকবেন প্রতিটি সাহসী কণ্ঠে—যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আছে।

