ইরানে চলমান সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ ও তাতে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীও সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ইরান কি সীমা লঙ্ঘন করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “দেখে মনে হচ্ছে, তারাই এটা শুরু করেছে।” তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটন কয়েকটি “খুব কঠিন বিকল্প” বিবেচনায় রেখেছে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই হুঁশিয়ারির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালায়, তাহলে তার জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়েছে এবং বলেছে, যেকোনো আগ্রাসনের ফল গুরুতর হবে।
এদিকে ইরানে বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহত বা গ্রেপ্তারের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে একদিকে জনগণের প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করলেও অন্যদিকে কড়া অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দাঙ্গাবাজদের’ সমাজ অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং জনগণের সে বিষয়ে আস্থা রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন। তীব্র মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে তা ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নেয়। বর্তমানে ইরানের বহু শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা সরাসরি বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছেন। ক্রমবর্ধমান এই আন্দোলন, প্রাণহানি এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা মিলিয়ে ইরান ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

