মেথির বীজ প্রাচীনকাল থেকেই রান্না, রূপচর্চা ও ভেষজ চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মেথি ভেজানো পানি বা মেথি চা পান করলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (মেটাবলিজম) উন্নত হয় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি কমে।

মেথির প্রধান উপকারিতা:
১. মেটাবলিজম উন্নত করে
মেথি শরীরের বিপাকীয় হার বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে ক্যালরি দ্রুত খরচ হয় এবং সহজে ওজন বাড়ার ঝুঁকি কমে।
২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
মেথিতে থাকা গ্লুকোমেনান নামক ফাইবার অন্ত্রে চিনির শোষণ ধীর করে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে।
৩. ইনসুলিন নিঃসরণে ভূমিকা
মেথির বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন নিঃসরণে উদ্দীপিত করে, যা রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।
৪. হজমশক্তি বাড়ায়
মেথিতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
৫. হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষা করে
নিয়মিত মেথি সেবনে কোলেস্টেরল ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে ধমনীতে চর্বি জমার ঝুঁকি কমে এবং হৃদ্রোগের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
৬. ডিটক্স ও কিডনি সুরক্ষা
মেথি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এর ফলে কিডনি পরিষ্কার থাকে এবং প্রস্রাবজনিত সমস্যা ও কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে।
৭. ত্বক ও চুলের যত্নে কার্যকর
মেথিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে, ব্রণ ও প্রদাহ কমায় এবং চুল পড়া রোধ করে চুলের গোড়া মজবুত করে।
৮. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি বৃদ্ধি
মেথি ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। পাশাপাশি এটি শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
কীভাবে মেথি গ্রহণ করবেন :
- রাতে এক গ্লাস পানিতে ১–২ চা-চামচ মেথির বীজ ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করা যেতে পারে।
- নিয়মিত চায়ের পরিবর্তে মেথি চা পান করা যেতে পারে।
- রান্না, সালাদ বা রায়তার সঙ্গে মেথি ব্যবহার করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত ও পরিমিতভাবে মেথি গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।

