মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, অতিরিক্ত ভিড় এবং অনেক ক্ষেত্রে তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার মতো ভোগান্তির মুখে পড়ছেন চালকরা। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে দেশে তেলের ঘাটতির আশঙ্কা নেই, তবুও ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে অনেক পাম্পে সাময়িক বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমাধান নিয়ে এসেছেন তরুণ প্রযুক্তিবিদ সজিব খান। তিনি ‘তেল কই’ নামে একটি ওয়েবভিত্তিক অ্যাপ তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই জানতে পারবেন দেশের কোন পেট্রোল পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথায় গাড়ির লাইনের ভিড় বেশি।
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা সজিব খান বর্তমানে পাঠাও লিমিটেডে ডেটা অ্যানালাইটিকস ও এআই অটোমেশন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তার তৈরি এই অ্যাপটি স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার—যে কোনো ডিভাইস থেকেই ব্যবহার করা যায়। অ্যাপটির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে কোন পাম্পে তেল মজুত রয়েছে, কোথায় তেল শেষ হয়ে গেছে এবং কোথায় গাড়ির লাইনের দৈর্ঘ্য বেশি।
‘তেল কই’ মূলত একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। ব্যবহারকারীরাই কোনো পাম্পে তেলের অবস্থা, লাইনের ভিড় কিংবা জ্বালানির দামের তথ্য যুক্ত করতে পারেন। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ২৮৭টি পেট্রোল পাম্পের তথ্য এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে, যা তেল নিতে যাওয়া চালকদের জন্য সহায়ক হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি প্রজন্মের তরুণরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক সমস্যার সমাধানে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। ‘তেল কই’ অ্যাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজি প্রতিরোধে ‘চান্দাওয়াচ’ এবং রমজানে ইফতারের তথ্য জানাতে ‘বিরিয়ানি দিবে’-এর মতো উদ্যোগও এর উদাহরণ। তাদের মতে, সঠিক সুযোগ ও সহায়তা পেলে তরুণদের এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেশের নাগরিক সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে এবং সাধারণ চালক ও পরিবহন খাতের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

