সরকার নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারগুলোর সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি এলাকায় নারীদের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে, যা উপকারভোগীদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে প্রদান করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১৪টি এলাকায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি চাকরি, পেনশন বা একাধিক ভাতা গ্রহণের মতো কারণ বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। একই দিনে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তাও পৌঁছে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্পর্শবিহীন চিপযুক্ত কার্ড দেওয়া হবে, যাতে কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকবে। একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্যকে একটি কার্ডের আওতায় রাখা হবে। ভবিষ্যতে এই কার্ডের মাধ্যমে সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তি এবং মিরপুর এলাকার আলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ি বস্তিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার নির্ধারিত ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলাতেও এই পাইলট কর্মসূচি চালু হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

