আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো বড় পরিবর্তন আসছে না। সরকার পরিবর্তনের পর ভর্তি পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগের মতো কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য কোটার ভিত্তিতে কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আগের বছরের নীতিমালাই অনুসরণ করে এবারও ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, আগামী ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই একাদশ শ্রেণির ভর্তি-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নীতিমালায় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পর এ নিয়ে জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি বছর নতুন কোনো পদ্ধতি চালুর সুযোগ নেই। স্বল্প সময়ে প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা কঠিন হওয়ায় আগের ব্যবস্থাই বহাল রাখা হয়েছে।

যেভাবে আবেদন করা যাবে
এবারও শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্বাচন করা যাবে। পরে এসএসসি পরীক্ষার ফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য কোটার ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
এই কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থা সাধারণ কলেজ ও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ব্যবস্থায় ভর্তি সম্পন্ন করবে। এছাড়া নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করবে।
ফল প্রকাশ পিছোনোয় বদলাচ্ছে ভর্তি সূচি
শুরুতে ২০ জুলাই এসএসসি ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকায় জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ভর্তি আবেদন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট নির্ধারণ হওয়ায় ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচিও নতুন করে সাজানো হচ্ছে। সরকারি ছুটি ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন ক্যালেন্ডার প্রকাশ করবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
আসন থাকবে পরীক্ষার্থীর চেয়ে বেশি
দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। বিপরীতে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিবন্ধিত ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রথম দিনেই ২৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অনুপস্থিতির সংখ্যা বেড়েছে।
ফলে এবারও বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত কত আসন শূন্য থাকবে, তা নির্ভর করবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পাসের হারের ওপর। পাসের হার বাড়লে খালি আসন কমবে, আর ফল খারাপ হলে শূন্য আসনের সংখ্যাও বাড়বে।

