প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিখোঁজদের একটি বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। নেপালের পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের চার শতাধিক পর্যটক ও নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারও। এখন পর্যন্ত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বেশি নিখোঁজ নাগরিকের তালিকায় রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ১৩০ থেকে ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
দ্বিতীয় বড় সংখ্যাটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের। নেপাল পর্যটন বোর্ডের একজন মুখপাত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, দুর্যোগের পর অন্তত ৪৭ জন মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন নাগরিকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, নিখোঁজ নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে অস্ট্রেলীয় সরকার।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিকেরও এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কানাডার ২৪ জন নাগরিকও দুর্যোগের পর নিখোঁজ রয়েছেন। কানাডায় অবস্থিত নেপালি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুর্যোগের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মালয়েশিয়ার অন্তত ১১ জন নাগরিকের সঙ্গে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় থাকা এসব নাগরিকের সঙ্গে নেপালে নিযুক্ত মালয়েশীয় দূতাবাস কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছে না।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯ জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। একই এলাকায় আরও ১০ জন কোরীয় নাগরিক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে সিউল।
এ ছাড়া জাপানের পাঁচ নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ হারিয়েছে নেপালে থাকা জাপানি দূতাবাস। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ি তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি জানিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।
নেপালের পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বহু জায়গায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও নেপাল সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিখোঁজ নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত এবং উদ্ধারের জন্য পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

