এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে মূল ফলাফলে ফেল করা ৪ হাজার ৮৫ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের পর পাস করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা গেছে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর গ্রেড ও নম্বরে পরিবর্তন এসেছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। মূল ফল প্রকাশের পর ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়ে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়া উত্তরপত্রের মধ্যে লিখিত বা তাত্ত্বিক পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি। অন্যদিকে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্রের ক্ষেত্রে। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারায় আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়া উত্তরপত্রের সংখ্যা এক নয়।

পুনর্নিরীক্ষণের পর মোট ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া ৫৬ হাজার ২৫৯ জন শিক্ষার্থীর নম্বরেও পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৮৫ জন শিক্ষার্থীর ফেল থেকে পাস করা এবং নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ–৫ অর্জন। ফলে মূল ফল প্রকাশের পর যারা কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে হতাশ হয়েছিল, তাদের অনেকের ফলাফলে এবার পরিবর্তন এসেছে।
এবারের পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিল। শুধু উত্তরপত্রে নম্বর যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, কিংবা কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না—এ ধরনের বিষয় যাচাইয়ের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। এর আগে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রচলিত নিয়মে পুনর্নিরীক্ষণের সময় মূলত নম্বরের যোগ-বিয়োগ বা কোনো প্রশ্নের নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, সেসব বিষয় যাচাই করা হতো। পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর পুনরায় মূল্যায়নের সুযোগ সাধারণত ছিল না।
এবার বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন করতে গিয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বাড়তি চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ১১ আগস্ট। আবেদন করার শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট। এ সময়ের মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়ে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল শিক্ষার্থীরা তিনটি মাধ্যমে জানতে পারছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সময় দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেও শিক্ষার্থীরা তাদের সংশোধিত ফলাফল দেখতে পারছে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ফেল থেকে পাস করা ৪ হাজার ৮৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একইভাবে নতুন করে জিপিএ–৫ পাওয়া ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থীর ফলাফল তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কলেজে ভর্তি ও পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংশোধিত ফলাফল বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস এবং নতুন করে জিপিএ–৫ পাওয়ার ঘটনা এবারের পুনর্নিরীক্ষণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। মূল ফল প্রকাশের পর ফল নিয়ে যেসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের মাধ্যমে তাদের একটি বড় অংশের ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে।

