ভারতে বোয়িং 737 মডেলের বিমানে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA), সব এয়ারলাইন্সকে জ্বালানি সিলেক্টর সুইচ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-এর একটি সতর্কতা জারির পর, যেখানে জানানো হয় যে, নির্দিষ্ট কিছু বোয়িং 737 বিমানে জ্বালানি সিলেক্টর সুইচে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে যা বিমানের জ্বালানি ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে এবং উড়ান নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।
FAA-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু বিমান চালকেরা জ্বালানি সিলেক্টর সুইচের ভুল সংকেত পেয়েছেন, যার ফলে জ্বালানির সঠিক ট্যাংক থেকে সরবরাহ না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি উড়ান চলাকালীন ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সতর্কতার পর DGCA তৎপর হয়ে ওঠে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সব এয়ারলাইন্সকে নির্দেশ দেয় যে, তারা যেন তাদের বহরে থাকা বোয়িং 737 সিরিজের প্রতিটি বিমান জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করে দেখে এবং যদি কোনো সমস্যা পাওয়া যায়, তবে অবিলম্বে তা মেরামত করতে হবে।

DGCA জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কোনো আপস করবে না। প্রতিটি এয়ারলাইন্সকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এসব বিমান যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহার করার আগে অবশ্যই DGCA-এর অনুমোদন নিতে হবে। ইন্ডিগো, স্পাইসজেট এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ভারতীয় এয়ারলাইন্স বর্তমানে বোয়িং 737 বিমান ব্যবহার করছে। এদের অনেকগুলিই আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সিলেক্টর সুইচ বিমানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর ত্রুটির কারণে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা উড়ন্ত বিমানের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। তাই সময়মতো এই সমস্যা চিহ্নিত করা ও প্রতিকার নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। DGCA-এর এই পদক্ষেপকে একটি সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে, যা দেশের বিমান চলাচলে নিরাপত্তার মান আরও শক্তিশালী করবে।

