ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কথিত যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, তেহরানে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন তিনি। তাকে “শহীদ” আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, হামলাটি শনিবার সকালে সংঘটিত হয়। ঘটনার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করেন বলেও জানানো হয়েছে।
এ ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা ও রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ, হতাহতের সংখ্যা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশটির সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, গোয়েন্দা কাঠামো ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব বজায় রেখেছিলেন। তার নেতৃত্বে ইরান আঞ্চলিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

খামেনির মৃত্যুর খবরে ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শোক কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

