পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে শুধু বিশ্বকাপ জয়ের মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত নয়—এমনটাই মনে করেন পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে বড় অর্জন, তবে কোনো ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না একটি ট্রফি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, অসাধারণ ফিটনেস, পেশাদারিত্ব এবং খেলায় গভীর প্রভাব—এসবই রোনালদোকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে স্থান দিয়েছে।
৪১ বছর বয়সেও রোনালদো রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় আছেন। জাতীয় দলের হয়ে ২২৩ ম্যাচে ১৪১ গোল করে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা ৯৬৪; আর ৩৬ গোল করলেই পেশাদার ফুটবলে হাজার গোলের মাইলফলকে পৌঁছাবেন এই আল নাসর তারকা। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হাঙ্গেরির বিপক্ষে গোল করে ৪৯ ম্যাচে ৩৯ গোল নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার কৃতিত্ব গড়েছেন; গুয়াতেমালার কার্লোস রুইজের সঙ্গে এই রেকর্ড ভাগাভাগি করছেন তিনি।

এদিকে পর্তুগিজ ফুটবল লিগ আনুষ্ঠানিকভাবে রোনালদোকে ‘সর্বকালের সেরা’ ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানায়, পরিসংখ্যানের বাইরেও কাজের নৈতিকতা, প্রতিযোগিতার মানসিকতা এবং বড় মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ব্যক্তিগত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভিডিও বার্তায় রোনালদো দেশের হয়ে অর্জিত এই সম্মানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
রোনালদো–মেসি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয় যখন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতেন। তবু মার্তিনেজের বিশ্বাস, বিশ্বকাপ জিতুক বা না জিতুক, রোনালদোর উত্তরাধিকার ইতোমধ্যেই পূর্ণতা পেয়েছে।
অন্যদিকে, সুইডিশ ফরোয়ার্ড ভিক্টর গিওকেরেস টানা দ্বিতীয়বারের মতো পর্তুগিজ লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। স্পোর্টিং সিপির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৪ গোল, যার মধ্যে লিগে ৩৯ গোল করে দলকে শিরোপা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এই সম্মান পেয়ে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন গিওকেরেস।
সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত অর্জন, আন্তর্জাতিক রেকর্ড এবং প্রভাব—সব দিক থেকেই রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল একজন তারকা নন; তিনি এক যুগের প্রতীক।

