ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অংশেই রয়েছে প্রায় ২,২১৭ কিলোমিটার সীমান্ত। এই দীর্ঘ সীমান্তের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও সম্পূর্ণভাবে কাঁটাতারের বেড়ার আওতায় আসেনি। সীমান্তের বহু জায়গায় বসতি, চাষের জমি, নদী ও চর এলাকা থাকায় বেড়া নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্র সরকারের তরফে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত কাঁটাতার বসানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বেআইনি অনুপ্রবেশ, পাচার, জাল নথির ব্যবহার এবং সীমান্তবর্তী অপরাধ ঠেকাতে এই বেড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র ও বিএসএফ। এই কারণেই জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ, রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব করছে। বিশেষ করে ‘সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ (এসআইএ) প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে জমি হস্তান্তর আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতেই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল স্পষ্টভাবে জানান, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনিক ঢিলেমি বরদাস্ত করা যাবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভূমি অধিগ্রহণ আইনে জরুরি অবস্থার জন্য যে বিশেষ ধারা রয়েছে— বিশেষ করে ধারা ৪০— তা কেন প্রয়োগ করা হচ্ছে না।
বিচারপতি পার্থসারথি সেন তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব শুধু কেন্দ্রের নয়, রাজ্য সরকারেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদালত আরও জানায়, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই অর্থ বরাদ্দ করেছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এখনও রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন না মেলায় কাজ আটকে রয়েছে। এই জমিগুলি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ করা যায় কি না, তা নিয়ে আগামী শুনানিতে কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অধিগৃহীত জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে এবং আদালতে হলফনামা জমা দিতে হবে। এই নির্দেশ মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।


