শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় দাখিল করা চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার্জশিট বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দিতে আদালত এ দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ দুই দিনের সময় চেয়ে আবেদন জানায়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আজকের তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেন। তারা হলেন—জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
চার্জশিট সংক্রান্ত ওই শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী শান্তা আক্তারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ এবং সময় আবেদনের বিষয়ে বাদী পক্ষ আদালতে সম্মতি প্রদান করেন।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা আদালতকে জানান, চার্জশিটের প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে যাচাই করতে মঙ্গলবার ও বুধবার সময় প্রয়োজন। তারা আদালতকে অবহিত করেন, আজ বৃহস্পতিবার জানানো হবে—চার্জশিট গ্রহণ করা হবে নাকি এতে নারাজি জানানো হবে। আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করেন।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সারাজীবন ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তিনি বলতেন, ‘আমার শত্রুর ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।’ সেই আদর্শকে সামনে রেখেই চার্জশিট পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অন্যায়ভাবে শাস্তির শিকার না হন। তারা আরও জানান, মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ জনের মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আদালতে করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরদিন ৭ জানুয়ারি আদালত চার্জশিটে ‘দেখিলাম’ মর্মে স্বাক্ষর করেন এবং আপত্তি থাকলে তা জানাতে বাদীকে ১২ জানুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গত ১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয়। পরদিন শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধসংলগ্ন স্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

