নজরবন্দি বাবা, আটক ভাইয়েরা—সৌদি রাজপরিবারে যেভাবে ক্ষমতার শীর্ষে উঠলেন মোহাম্মদ বিন সালমান

Date:

Share post:

২০১৫ সালে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যু সৌদি আরবের রাজনীতিতে একটি বড় বাঁক এনে দেয়। তাঁর মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন সৎভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ। সিংহাসনে বসেই নতুন বাদশাহ প্রথম যে বড় সিদ্ধান্তটি নেন, তা হলো—৬৮ বছর বয়সী সৎভাই মুকরিন বিন আবদুল আজিজকে যুবরাজ (ক্রাউন প্রিন্স) ঘোষণা করা।

তবে এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মাস পরই বাদশাহ সালমান মুকরিনকে সরিয়ে দেন, এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ৫৫ বছর বয়সী ভাইপো মোহাম্মদ বিন নায়েফ। একই সঙ্গে, সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি নিজের মাত্র ২৯ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

তখন সৌদি রাজনীতিতে “মোহাম্মদ বিন সালমান” নামটি প্রায় অপরিচিত। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে কেউই খুব একটা জানতেন না এই তরুণ রাজপুত্র সম্পর্কে। অন্যদিকে, মোহাম্মদ বিন নায়েফ ছিলেন বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি মুখ। মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নায়েফ এফবিআই থেকে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, আর ব্রিটেনের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড থেকে শিখেছেন সন্ত্রাস দমন কৌশল। ২০০৯ সালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি—যার জন্য দায়ী ছিল আল-কায়েদা। এই ঘটনা তাঁকে বিশ্বমঞ্চে আরও পরিচিত করে তোলে।

কিন্তু মোহাম্মদ বিন সালমান—সংক্ষেপে এমবিএস—শুধু নামেই ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ছিলেন না। লেখক ডেভিড বি. ওটাওয়ে তাঁর বইয়ে লিখেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরপরই এমবিএস নিজের পদকে ব্যবহার করতে শুরু করেন “বাদশাহর দরজার প্রহরী” হয়ে ওঠার জন্য। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটাই—বাবা বাদশাহ সালমানকে চারপাশের সব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং রাজপরিবারের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া।

একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুবই সচেতনভাবে এমবিএস তাঁর বাবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন পরিবারের পুরোনো উপদেষ্টা, ভাই, এমনকি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের। এমনকি এমনও দাবি করা হয়—তিনি বাদশাহ সালমানকে তাঁর স্ত্রী, অর্থাৎ এমবিএসের মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে দিতেন না, যাতে তাঁর প্রভাব পুরোপুরি সীমাবদ্ধ থাকে।

এই পরিকল্পিত বিচ্ছিন্নতা এবং পিতার ‘প্রহরী’ হয়ে ওঠার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সৌদি রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকেন মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপর একে একে যেসব নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে—যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে গৃহবন্দি করা, রাজপরিবারের শীর্ষ সদস্যদের আটক, এবং বিশাল অঙ্কের ‘দুর্নীতি বিরোধী’ অভিযান—সবই ছিল সেই ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের রোডম্যাপের অংশ।

Related articles

ঘরে ঘরে মাথা, চোখ ও ঘাড়ের ব্যথা—কীসের ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে চাপ অনুভব করা এবং ঘাড়ে ব্যথার মতো...

নিজেদের ভুলেই মেসির জাদু, দাবি পেতকোভিচ

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়ের পর দলের ভুলকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন আলজেরিয়ার প্রধান প্রশিক্ষক...

চার্জে থাকা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ, দগ্ধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ঢাকার আশুলিয়ায় চার্জে থাকা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক...

হেক্সা মিশনে হোঁচট ব্রাজিলের, ইতিহাস গড়ল মরক্কো

বিশ্বকাপের শুরুটা মোটেও প্রত্যাশামতো হলো না ব্রাজিলের। শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান...