ওমানের দোফার প্রদেশে প্রথমবারের মতো থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিনব নকশার সমন্বয়ে তৈরি হতে যাওয়া এই মসজিদটি উপকূলীয় শহর দোহারিজের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় স্থাপিত হবে, যা স্থানীয়ভাবে স্থাপত্য ও ধর্মীয় চেতনার এক নতুন নিদর্শনে পরিণত হবে।

ওমান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩ অক্টোবর (শুক্রবার) এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দোফার গভর্নরেট। যৌথভাবে মসজিদটি নির্মাণ করবে দেশীয় থ্রিডি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ইনোটেক ওমান এবং আন্তর্জাতিক আর্কিটেকচার প্রতিষ্ঠান ওডে আর্কিটেকচার।
মসজিদের নকশায় ‘স্পাইরাল রিবন’ বা সর্পিল ফিতার ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে, যা মসজিদের প্রাঙ্গণে ছায়াঘেরা পথ ও ধাপে ধাপে সবুজায়নের পরিবেশ তৈরি করবে। স্থাপনাটিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকবে, যা বাতাস, সূর্যের আলো ও মানুষের চলাচল থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারবে। মসজিদের প্রধান নামাজঘরটি হবে ডিম্বাকৃতি, যার ওপরে থাকবে একটি খোলা অংশ (অকুলাস), যা দিয়ে প্রাকৃতিক আলো ভেতরে প্রবেশ করবে—এই আলো প্রতীকীভাবে আল্লাহর দিকনির্দেশনা হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
মিনারেটের নকশা অনুপ্রাণিত হয়েছে ওমানের ঐতিহ্যবাহী পালতোলা নৌকা ও ধূপদানি থেকে। মিনারের শীর্ষে থাকবে চাঁদের হিলাল, যা ওমানি ঐতিহ্য এবং আধুনিক স্থাপত্যের মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রকল্পটি দোহারিজ ওয়াটারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন দোফারের গভর্নর সাইয়্যিদ মারওয়ান বিন তুর্কি আল সাঈদ, দোফার মিউনিসিপ্যালিটির প্রধান ড. আহমেদ বিন মোহসেন আল গাসসানি এবং প্রকল্পের পৃষ্ঠপোষক প্রকৌশলী ইয়াসির বিন সাঈদ আল বারামি। ড. আল গাসসানি বলেন, “এই মসজিদ দোহারিজ সৈকতের কাছে একটি আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শন হিসেবে গড়ে উঠবে। থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রীর অপচয় হ্রাস পাবে, কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং প্রাকৃতিক আলো ও নবায়নযোগ্য শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।”
তিনি আরও জানান, মসজিদ ও তার আশপাশের ল্যান্ডস্কেপে লবণ ও বাতাস সহনশীল উদ্ভিদের ব্যবহার করা হবে, যা প্রকল্পটিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগরায়ণের দিকে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

