মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের এলপিজি আমদানি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির উৎসে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে ওমান, ইরাক ও সৌদি আরবের মতো দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলপিজি আমদানি করা হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা অনেক বেড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সরবরাহকারীদের কাছ থেকে। অথচ ২০২৫ সালের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথে এলপিজি পরিবহন করতে হওয়ায় জাহাজভাড়া, বিমা ও আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে প্রতি টন পরিবহনে প্রায় ৮২ ডলার খরচ হলেও বর্তমানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ২৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি টনে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৩৫০ ডলার প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প সরবরাহকারী সীমিত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে দেশের প্রায় এক কোটি গ্রাহক রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহার করেন। তাই আমদানি ব্যয় ও সরবরাহে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব স্থানীয় বাজার এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিকল্প দেশ থেকে এলপিজি আমদানি, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি এবং আমদানির উৎস বহুমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।



আপনার মতামত লিখুন