তীব্র শীত ও কনকনে হিমশীতল বাতাসে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিম বাতাসে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। তবে মঙ্গলবার হঠাৎ করেই তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ ডিগ্রির ঘরে, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার।
এর আগের দিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে গেছে। কয়েকদিন ধরে রোদের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনমজুর, চা শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না, ফলে তাদের আয় কমে গেছে। শীতার্ত ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য প্রতিটি রাতই এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। শীতের এই বৈরী পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষেরা সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করছেন।
অন্যদিকে, তীব্র শীত ও একটানা কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬-৮ কিলোমিটার। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে সকাল ও সন্ধ্যার পর ঘন কুয়াশা পড়ছে বলেও তিনি জানান।

