শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। রাত ও ভোরে তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন বয়স্ক এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের রোগীরা। চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে শরীরের কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলেই রক্তচাপ আচমকা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের রক্তবাহিকায় রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস (বিআইএন)-এর নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডা. গৌতম গঙ্গোপাধ্যায় জানান, শীতের কারণে রক্তবাহিকা সংকুচিত হয়ে পড়ে। রক্তবাহিকা সরু হয়ে যাওয়াতেই রক্তচাপ বেড়ে যায়।
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অংশু সেন বলেন, শীতকালে রক্তবাহিকা সঙ্কুচিত হওয়ায় আগে থেকে থাকা ছোট ব্লকেজও বড় আকার নেয়। পাশাপাশি ঘাম কম হওয়ায় শরীরের তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ঠান্ডার প্রভাবে নরঅ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে দুই ধরনের স্ট্রোকের ঘটনাই বাড়ে—একদিকে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া (ইস্কেমিক স্ট্রোক), অন্যদিকে রক্তবাহিকা ফেটে রক্তক্ষরণ হওয়া (হেমারেজিক স্ট্রোক)। শীতের শুরু থেকেই হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে এমন রোগীর চাপ বাড়তে থাকে।
এ ছাড়া শীতকালে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়মের ফলে রক্তচাপ, সুগার ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার আশঙ্কাও থাকে। বিশেষ করে ভোর সাড়ে তিনটা থেকে সকাল ছয়টার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ বেশি থাকে, তার ওপর ওই সময় তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকায় স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, শীতের সময় নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা, ওষুধে কোনো রকম অনিয়ম না করা এবং শরীর উষ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতাই এই সময়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

