মার্কিন অভিযানে আটক মাদুরো, বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র ঝাঁকুনি

Date:

Share post:

গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি বিষ্ময়কর ও আলোচিত ঘটনা ঘটে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি বিস্ময়কর ও বৃহৎ পরিচিতি লাভ করা অপারেশন “অ্যাবসলিউট রেজলভ (Operation Absolute Resolve)” চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। এই অভিযানটি মূলত ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর হামলা ও শেয়ার্ড স্ট্রাইক হিসেবে সংঘটিত হয়, যার ফলে দেশটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বিমান হামলা এবং জরুরি অবস্থার ঘোষণা করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ঘোষণা দেন যে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে ‘নরকো-টেররিজম’ ও মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এর ফলে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার মধ্যে পড়ে যায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, কারণ একটি সার্বভৌম দেশের বস্তুত বসন্তকালীন সরকার প্রধানকে তুলে নিয়ে অন্য দেশের বিচার ব্যবস্থায় তোলা আন্তর্জাতিক আইনের কঠিন প্রশ্ন তুলেছে।

এই অভিযানে ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও সৈন্য সহ বেসামরিক মানুষসহ অন্তত ৩২–৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন উৎস থেকে খবর পাওয়া গেছে, বিশেষত কিউবার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের নাগরিকরাও নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন এর পেছনে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে যে মাদুরোর সরকার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক, অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পাঠাচ্ছে এবং তা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক হুমকি হয়ে উঠেছে, তাই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই যুক্তি আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি এবং বহু আন্তর্জাতিক আইনবিদ এ সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দেখছেন। United Nations (UN)-এর সাধারণ সম্পাদক আন্তোনিও গুতেরেস এই অপারেশনকে “একটি বিপজ্জনক উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, এবং বিশ্ব সম্প্রদায় ও নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা-র কনস্টিটিউশন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিতিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেজকে সাময়িকভাবে প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করা হয়, যদিও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন মাদুরোই বৈধ প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর মুক্তির দাবিও তুলেছেন।

বিশ্বজুড়ে এই অভিযান নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যাপক বিরূপ ও বিভাজিত:
🔹 রাশিয়া, চীন, ইরানসহ অনেক দেশ এই অভিযানকে ‘সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ ও ‘আক্রমণ’ বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছে।
🔹 কিছু পশ্চিমা দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বলেন যুক্তরাষ্ট্রকে আইনি ও বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে, একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নয়।
🔹 ভারতসহ কিছু দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সংলাপ ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন, শক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা ও তেল ও ভূ-রাজনীতি—সবই আলোচ্য হয়ে উঠেছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বহুপাক্ষিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক নীতিতে দৃশ্যমান হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Related articles

মক্কামুখী হুতি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি আরবের

সৌদি আরবের দাবি, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা...

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে ভ্রমণ...

নটর ডেম কলেজে একাদশে ভর্তি: আজ ভাইভা, চূড়ান্ত তালিকা মঙ্গলবার

নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া এখন মৌখিক পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছেছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা...

বিয়ের আনন্দ শেষে কনের ভাই-বোনসহ সড়কে প্রাণ গেল ৪ জনের

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কনের ভাই-বোনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায়...