রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সঠিকভাবে পানি পান করাই সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক রোজা পালনের অন্যতম শর্ত। রাজধানীভিত্তিক পুষ্টিবিদ রোকসানা তনু জানান, এই সময়ে গড়ে ১০–১২ গ্লাস বা প্রায় ২–৩ লিটার তরল গ্রহণ করা উপযুক্ত। তবে একসঙ্গে বেশি পানি না খেয়ে ধাপে ধাপে পান করাই শ্রেয়।
তিনি ‘৪-২-২-২ প্যাটার্ন’ অনুসরণের পরামর্শ দেন। এ নিয়ম অনুযায়ী ইফতারে ৪ গ্লাস, মাগরিবের পর ২ গ্লাস, রাতের খাবারের পর ২ গ্লাস এবং সেহরিতে ২ গ্লাস পানি পান করলে শরীর দীর্ঘ সময় হাইড্রেট থাকে। তার ভাষ্য, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি কমে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি কিডনি ও ত্বকের সুস্থতাও বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সারাদিন রোজার পর ইফতারের শুরুতেই একসঙ্গে কয়েক গ্লাস পানি পান করা উচিত নয়। প্রথমে ১ গ্লাস (২০০–২৫০ মিলিলিটার) পানি দিয়ে ধীরে ধীরে শুরু করা নিরাপদ। কয়েক মিনিট বিরতি দিয়ে প্রয়োজনে আরও ১ গ্লাস পান করা যেতে পারে। একবারে ৩–৪ গ্লাস পানি পান করলে পেটে অস্বস্তি, বমিভাব বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, সেহরির শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত পানি পান করলে সারাদিন কম পিপাসা লাগবে—এ ধারণাকেও বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থনযোগ্য মনে করেন না। মানবদেহ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি দ্রুত প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। ফলে আজানের আগে তাড়াহুড়া করে বেশি পানি পান করলে দীর্ঘমেয়াদি উপকার মেলে না; বরং অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
পুষ্টিবিদরা ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়কে ‘হাইড্রেশন উইন্ডো’ হিসেবে বিবেচনা করে ধীরে ধীরে ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, ভাজাপোড়া ও ক্যাফেইনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার কথাও বলা হচ্ছে, কারণ এগুলো শরীরের পানি ক্ষয় বাড়ায়।
তবে কিডনি রোগ, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পানি গ্রহণের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, রমজানে সুস্থ থাকতে হলে পানির ক্ষেত্রেও প্রয়োজন সংযম ও সঠিক পরিকল্পনা—ধীরে, নিয়ম মেনে এবং পরিমিত পরিমাণে পানি পানই হতে পারে সুস্থ রোজার চাবিকাঠি।

