দেশজুড়ে হাম সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে রুবেলা সংক্রমণের সঙ্গেও এর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং কয়েক দিনের মধ্যে মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, হামকে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, কারণ এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিয়ে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানপাকা, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ অন্তত ১০টি জেলায় হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ একাধিক শিশুর মৃত্যু এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সংকট পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। চিকিৎসকরা বলছেন, টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ, মাতৃদুগ্ধের অভাব, কৃমিনাশক না খাওয়া এবং অপুষ্টিই সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

হাম মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায় এবং বাতাস বা পৃষ্ঠে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকতে পারে। লক্ষণ প্রকাশের আগেই সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকায় এটি দ্রুত মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। সংক্রমণের ৯ থেকে ১১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে চার দিন পরে পর্যন্ত রোগটি সবচেয়ে বেশি সংক্রামক থাকে। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি—একই পরিবারে বসবাস করলে প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বাংলাদেশে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হলেও টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু এখনো সুরক্ষার বাইরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

