লাইলাতুল কদর বা শবে কদর ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, এ রাতেই কুরআন নাজিল হয়েছে এবং এ রাতে ফেরেশতারা ও হজরত জিবরাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং ফজর পর্যন্ত শান্তি ও রহমত বর্ষিত হতে থাকে (সুরা কদর)। এই মহিমান্বিত রাতটি সাধারণত রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে—২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজান।
অনেক আলেমের মতে ২৭ রমজানে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই মুমিন মুসলমানদের উচিত এই রাতগুলো ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটানো। এ রাতে নফল নামাজ, তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ ও সালাতুল হাজাত আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। পাশাপাশি বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, তাওবা ও ইস্তেগফার করা, জিকির-আজকার করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে দোয়া শিখিয়েছেন—“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি” অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন”—এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উত্তম।

এ রাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো কোরআন-সুন্নাহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, পরিবার-পরিজন ও মৃতদের জন্য দোয়া করা এবং যদি কারো নামাজ কাজা হয়ে থাকে তবে তা আদায়ের চেষ্টা করা। হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতে জেগে ইবাদত করবে, আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন (বুখারি)। তাই এই মহিমান্বিত রাতকে ইবাদত, দোয়া ও তাওবার মাধ্যমে কাটানোই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম আমল।

