মিরপুর (ঢাকা) — রাসায়নিক গুদাম ও গার্মেন্টস কারখানায় আগুন ১৪ অক্টোবর, মঙ্গলবার, রাজধানী ঢাকার মিরপুর থানার শিয়ালবাড়ি এলাকায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে একটি পোশাক কারখানার তৃতীয় তলায় এবং পাশের একটি রাসায়নিক গুদামে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত রাসায়নিক গুদাম থেকে এবং তা দ্রুত পাশের গার্মেন্টস কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই গার্মেন্টস কর্মী। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও রাসায়নিক গুদামে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি এখনও রয়েছে, যা উদ্ধারকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। গুদামে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণঘাতী। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। তবে, রাসায়নিক গুদাম ও গার্মেন্টস কারখানার কোনোটি-ই ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সেফটি ক্লিয়ারেন্স বা দখল সনদ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। মিরপুরের এই অগ্নিকাণ্ড বাংলাদেশে শিল্প নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। সরকার ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। এই ঘটনা দেশের শিল্প নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
চট্টগ্রাম (চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ১৬ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (CEPZ) আদম ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড নামে একটি সাততলা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া এই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সপ্তম ও ষষ্ঠ তলায়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিট, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ইউনিটসহ প্রায় ৩০টি উদ্ধারকারী দল কাজ করে। তবে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কারখানার ভবন নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তার নিয়মাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে, আগুন নেভানোর উপযুক্ত পথ বা সড়ক ব্যবস্থা ছিল না, যা উদ্ধারকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, ভবনের ছাদে ওঠার পথও লক করা ছিল, যা কর্মীদের দ্রুত সরে পড়ার পথ বন্ধ করে দেয়। আদম ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড মূলত তোয়ালে ও মেডিকেল ক্যাপ উৎপাদন করে। এই কারখানার অগ্নিকাণ্ড চট্টগ্রামের রপ্তানি খাত ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের সংকেত বহন করে। CEPZ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র, যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এই ধরনের দুর্ঘটনা রপ্তানি খাতের সুরক্ষা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। সরকার ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া, CEPZ কর্তৃপক্ষও কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ঢাকা বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport) – কার্গো সেকশনে আগুন ও ফ্লাইট ব্যাহত ১৮ অক্টোবর, শনিবার, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বিজিবি যৌথভাবে কাজ করে। তবে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে, রাত ৯টা ৬ মিনিটে প্রথম ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করে, এবং পরবর্তীতে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে। তবে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

