আজ পবিত্র শবে বরাত, যা শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। মুসলমানদের কাছে এ রাত ‘লাইলাতুল বরাত’ বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পরিচিত। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনায় রাত অতিবাহিত করছেন।
শবে বরাতকে অতীতের গুনাহ থেকে মুক্তি এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনার বিশেষ রাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে এ রাত পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তা বহন করে, যার মাধ্যমে রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কার পরিহার করে ইসলামের শান্তি ও সৌন্দর্যের আদর্শে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহিংসতা ও বিদ্বেষ পরিহার করে মানবকল্যাণে সহিষ্ণুতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআন তিলাওয়াত, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য সারা রাত মসজিদ খোলা রাখা হয়েছে। ফজরের নামাজ ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শবে বরাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শাবান মাসের ১৫তম রাত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিস অনুযায়ী এ রাতে নফল ইবাদত ও পরদিন রোজা রাখা উত্তম। এ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার এবং মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে পটকা ফোটানো, আলোকসজ্জা, কবর বা মাজারে মোমবাতি জ্বালানোসহ অপসংস্কৃতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।
হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা অধিকাংশ বান্দাকে ক্ষমা করেন; তবে শিরককারী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ও হিংসাকারীদের ক্ষমা করা হয় না। তাই অহংকার ও হিংসা পরিত্যাগ করে খাঁটি তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, শবে বরাতের পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

