পৃথিবীর সবচেয়ে মমতাময় ও নির্ভরতার আশ্রয় হলো ‘মা’। সন্তানের জীবনের প্রথম স্পর্শ, প্রথম অনুভূতি ও প্রথম নিরাপত্তার প্রতীক এই শব্দটি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। জীবনের প্রতিটি ধাপে মা সন্তানের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকেন—হাঁটতে শেখা থেকে শুরু করে কঠিন সময়ে সাহস জোগানো পর্যন্ত। বিশেষ করে, বাবা হারানোর পর অনেক পরিবারে মায়ের ভূমিকাই হয়ে ওঠে পুরো সংসারের ভিত্তি। এমন পরিস্থিতিতে মা নিজের সব সুখ-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করে তোলেন এবং তাদের জীবনের একমাত্র ভরসা ও পৃথিবী হয়ে ওঠেন।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালিত হয় মা দিবস, যা মায়েদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি। প্রাচীন গ্রিসের মাতৃদেবী রিয়া-কে ঘিরে উৎসব থেকে শুরু করে ব্রিটেনের ‘মাদারিং সানডে’ এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজকর্মী অ্যানা জার্ভিসের আন্দোলনের মাধ্যমে আধুনিক মা দিবসের সূচনা হয়। তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ১৯০৮ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে জাতীয়ভাবে মা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

আজ মা দিবস কেবল একটি তারিখ নয়, বরং পৃথিবীর সব মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনে মানুষ বিভিন্নভাবে মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছে। আসলে পৃথিবীর সব সুখের চেয়ে মায়ের স্নেহ অনেক বড়, আর মায়ের মুখের হাসিই সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাই এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সুস্থতার আন্তরিক প্রার্থনা।

