মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। পাঁচ দিনের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। একই সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দারুণ সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর আজান আওয়াইস ও শান মাসুদের উইকেট হারিয়ে দ্রুতই ব্যাকফুটে চলে যায় সফরকারীরা। যদিও আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন, তবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি পাকিস্তান।
চা বিরতি পর্যন্ত ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাট করে পাকিস্তানকে আশার আলো দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ সেশনে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা গতি, নিখুঁত লাইন-লেংথ ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সফরকারীদের ড্রয়ের স্বপ্ন।

নাহিদ রানা নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট ফাইফার পূর্ণ করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ব্যাট হাতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের অবদান বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়তে সহায়তা করে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান তোলে, জবাবে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৩৮৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগারদের লড়াকু ব্যাটিং পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করায়, যা শেষ পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি সফরকারীরা।
২০০১ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট ইতিহাসে এই জয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথমবার পাকিস্তানকে হারানোর পর এবার দেশের মাটিতেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করল বাংলাদেশ। এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস, পরিপক্বতা ও নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে থাকবে।

