মেরিনোর ৯১তম মিনিটের জাদুতে আইবেরিয়ান ডার্বি জিতে শেষ আটে লা রোজা, বিশ্বকাপে রোনালদোর অধ্যায় কি তবে শেষ?
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন ও পর্তুগালের আইবেরিয়ান ডার্বি। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রত্যাশার কেন্দ্রে থাকা এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে স্পেন। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর দুর্দান্ত গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে লা রোজা। অন্যদিকে, শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পর্তুগালকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল, পাসিং এবং আক্রমণভাগে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে স্পেন। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলে তারা একের পর এক আক্রমণ সাজালেও পর্তুগালের সুসংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের অসাধারণ নৈপুণ্যে দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধে স্পেন বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে ঘাটতির কারণে ব্যবধান গড়ে তুলতে পারেনি।

অন্যদিকে, রক্ষণে দৃঢ় থাকার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণের কৌশলেই এগোয় পর্তুগাল। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে কয়েকবার স্পেনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো গোলে রূপ দিতে ব্যর্থ হয় তারা। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পুরো ম্যাচজুড়ে লড়াই করলেও স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্স তাকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে। ফলে গোলের দেখা পাননি পর্তুগিজ অধিনায়ক।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ৯১তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ফেরান তোরেসের নিখুঁত বাড়ানো বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে জালে পাঠান বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাসে মুখর পরিবেশ, আর হতাশায় ভেঙে পড়ে পর্তুগালের খেলোয়াড়রা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত সমতায় ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পর্তুগাল।
এই জয়ের মাধ্যমে আবারও বড় মঞ্চে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিল স্পেন। ম্যাচজুড়ে ধৈর্য ধরে পরিকল্পিত ফুটবল খেলে শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে হারানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে তারা। বিশেষ করে বদলি খেলোয়াড়দের ইতিবাচক প্রভাব স্পেনের কোচিং কৌশলকেও সফল প্রমাণ করেছে।
পর্তুগালের জন্য এই পরাজয় ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দলটির বিশ্বকাপ অভিযান এখানেই শেষ হয়ে গেল, আর সেই সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ। ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি পুরো ম্যাচ খেললেও গোল করতে পারেননি। ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোর শেষ ম্যাচ। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও ম্যাচ শেষে আবেগঘন পরিবেশ সেই জল্পনাকেই আরও জোরালো করেছে।
অন্যদিকে, এই জয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত স্পেন এখন কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারের সমন্বয়ে গড়া দলটি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে লা রোজা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন নাটকীয় জয় স্পেনকে যেমন নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে, তেমনি পর্তুগালের জন্য এটি হয়ে থাকল অপূর্ণ স্বপ্নের আরেকটি অধ্যায়। শেষ মুহূর্তের এক গোলই বদলে দিয়েছে পুরো ম্যাচের গল্প—একদিকে স্পেনের উল্লাস, অন্যদিকে পর্তুগালের হৃদয়ভাঙা বিদায়।

