বিশ্বকাপের শুরুটা মোটেও প্রত্যাশামতো হলো না ব্রাজিলের। শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের খেলোয়াড়রাও। তবে হতাশার এই রাতেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছে সেলেসাওরা, আর ইতিহাস গড়েছে মরক্কো।
ম্যাচের ২১ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে ইসমায়েল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা আফ্রিকান দলটি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে। ৩২ মিনিটে রাফিনিয়ার পাস থেকে দুর্দান্ত এক শটে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে এরপর আর কোনো দলই জয়সূচক গোল খুঁজে পায়নি।ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার দানিলো স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে দল একেবারেই নিজেদের সেরা ছন্দে ছিল না। টেকনিক, কৌশল ও মাঠে অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আরও গোল হজম করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপের শুরুটা ব্রাজিলের জন্য মোটেও স্বপ্নের মতো হয়নি।

তবে ড্র করেও একটি অনন্য রেকর্ড ধরে রেখেছে ব্রাজিল। টানা ২১টি ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়েছে তারা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ ১৯৩৪ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল ব্রাজিল।
অন্যদিকে মরক্কোর জন্য এটি ছিল ইতিহাস গড়ার ম্যাচ। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জন করেছে আটলাস লায়ন্সরা। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে মরক্কোর শুরুর একাদশের ১১ জন খেলোয়াড়ই ছিলেন বিদেশে জন্ম নেওয়া।
সব মিলিয়ে ফলাফল ড্র হলেও ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত লড়াই হয়ে উঠেছে। একদিকে ব্রাজিলের হতাশা, অন্যদিকে মরক্কোর ঐতিহাসিক অর্জন—দুই মিলিয়ে ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে।

