সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৩০ শতাংশ শুল্কের হুমকি নতুন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ২০২5 সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই ইইউ’র শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়ায় নেমেছেন। তবে এই হুমকি সত্ত্বেও ইইউ সরাসরি নতি স্বীকার করছে না। বরং তারা কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করে সময় নিচ্ছে এবং সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইউরোপীয় পণ্য, বিশেষ করে গাড়ি ও কৃষিপণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় গাড়ির ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিসহ ইউরোপের বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর জন্য এটি এক বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে ইইউ এখনও পর্যন্ত সরাসরি পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে আগস্ট ১ তারিখ পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ স্থগিত রেখেছে।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লাইয়েন জানিয়েছেন, তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে ইইউ পরিমিত ও কার্যকর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত শুল্ক আরোপের মুখে পড়লে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া যায়। ইউরোপীয় নেতারা বিশ্বাস করেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইইউ হয়তো আপাতত সময় নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে, তবে সেটি নতি স্বীকারের সমান নয়। বরং তারা বিকল্প বাজার খুঁজে, বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো পুনঃমূল্যায়ন করে ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়িয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে। ফলে, ইইউ বর্তমানে সংযম দেখালেও প্রয়োজনে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে মোটেই পিছপা হবে না।
এখন প্রশ্ন, আগস্টের পর কী ঘটবে? ট্রাম্প যদি সত্যিই শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে ইইউ কী কৌশল নেবে—তা নির্ধারণ করবে আগামীর বিশ্ব বাণিজ্য রাজনীতির গতিপথ।

