ইরান যুদ্ধকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। সপ্তাহান্তে এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় খুব কম সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। একই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কার্যত থেমে গেছে।
শনিবার হরমুজ দিয়ে মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। পরদিন রোববার কোনো বাণিজ্যিক জাহাজই প্রণালিটি অতিক্রম করেনি। অথচ তার আগের সপ্তাহান্তে ৩১টি জাহাজ এই পথে যাতায়াত করেছিল।
শনিবার যেসব জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, সেগুলোর মধ্যে একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার ছিল। তবে সেটি খালি অবস্থায় চলছিল এবং এর স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ভারতের পতাকাবাহী একটি বড় এলএনজিবাহী জাহাজও সেদিন প্রণালিটি অতিক্রম করে। পাশাপাশি ইরানের একটি ছোট তেলবাহী ট্যাংকারও এই জলপথ ব্যবহার করেছে।

সম্প্রতি হরমুজে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানির তিনটি জাহাজও হামলার কবলে পড়ার কথা জানানো হয়। এরপর থেকেই অনেক জাহাজ নিরাপত্তার কারণে প্রণালিটি এড়িয়ে চলছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব মূলত বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে প্রণালিটি ব্যবহার করতে ইরানের নির্ধারিত কিছু শর্ত মানতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরানের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
শুধু হরমুজ নয়, যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেবেও। সেখানে সপ্তাহান্তে ৪৯টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের সপ্তাহান্তে সংখ্যা ছিল ৫৫টি। একই সময়ে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল পরিবহনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

