পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে সঠিক খাবার নির্বাচন কিডনি রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে, যা শারীরিক জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই রোজা রাখার আগে কিডনি রোগীদের অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের অনেক রোগী চিকিৎসকের পরামর্শে রোজা রাখতে পারেন। তবে তৃতীয় পর্যায়ের রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন এবং চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের রোগী কিংবা ডায়ালাইসিসে থাকা ব্যক্তিদের রোজা রাখার বিষয়ে সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়।
ইফতারের খাদ্যতালিকায় পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার রাখা উচিত। পটাশিয়ামের মাত্রা বিবেচনায় ইফতারে এক থেকে দুইটির বেশি খেজুর না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পানীয় হিসেবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম রংযুক্ত শরবতের পরিবর্তে লেবুর শরবত বা ঘরে তৈরি হালকা পানীয় বেছে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি শসা, আপেল, নাশপাতি, পেঁপে কিংবা পেয়ারা মতো জলীয় অংশ বেশি থাকা ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
প্রোটিনের চাহিদা পূরণে অল্প পরিমাণে সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, গ্রিল করা মুরগি বা মাছ খাওয়া যেতে পারে। হালকা খাবার হিসেবে কম লবণ দিয়ে মুড়ি, দই-চিঁড়া বা সবজির পাতলা স্যুপ খেলে হজম ভালো থাকে এবং কিডনির ওপর চাপ কম পড়ে। শাকসবজি রান্নার আগে সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে এতে থাকা পটাশিয়ামের পরিমাণ কিছুটা কমে যায়, যা কিডনি রোগীদের জন্য উপকারী।
অন্যদিকে কলা, কমলা, মাল্টা, টমেটো, আলু, কাঁঠাল ও ডাবের পানির মতো উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, ডুবো তেলে ভাজা ইফতারি, প্যাকেটজাত খাবার, চানাচুর, নোনতা বিস্কুট এবং কোল্ড ড্রিংকস কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারের পর একবারে বেশি পানি পান না করে বরং ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পানি পান করা কিডনি রোগীদের জন্য বেশি নিরাপদ। একই সঙ্গে যাদের কিডনি রোগ জটিল পর্যায়ে রয়েছে বা যারা ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা ও খাদ্যতালিকা নির্ধারণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

