২০২৬ সালের হজ্ব মৌসুমকে সামনে রেখে মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী এলাকায় ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধের বিষয়ে সৌদি আরব নতুন নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে—এমন খবর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যদিও সৌদি সরকারের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের আধ্যাত্মিক পরিবেশ রক্ষা ও ইবাদতকারীদের মনোযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে এই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণই মূল লক্ষ্য
সৌদি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পবিত্র স্থান দুটিতে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল। তবুও হজ ও ওমরাহ মৌসুমে প্রচুর মুসল্লি মোবাইল ফোন, সেলফি স্টিক ও ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি বা ভিডিও করার কারণে তাওয়াফের প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে, নামাজে অসুবিধা সৃষ্টি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রশাসনের ধারণা, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার পবিত্র স্থানের মর্যাদা ও আধ্যাত্মিকতা ক্ষুণ্ন করছে। এজন্যই ২০২৬ সাল থেকে আরও কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি মুসল্লির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা—এই দুই কারণ প্রশাসনকে নতুন নীতিমালা গ্রহণে উৎসাহিত করছে।
পুরোনো নির্দেশনার বিস্তৃতি—নতুন নীতি কতটা কঠোর হতে পারে?
হারামাইনে ফটোগ্রাফি নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি নতুন নয়। ২০১৭ সালে প্রথমবার সৌদি কর্তৃপক্ষ মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ভেতরে পেশাদার ক্যামেরা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাধারণ মুসল্লিদেরও ছবি তোলায় সতর্কতা আরোপ করেছিল। ২০২৫ সালের রমজান মাসে মসজিদ এলাকায় লাইভ ব্রডকাস্ট ও ভিডিও রেকর্ডিং সর্বাত্মকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের হজকে সামনে রেখে পূর্ণাঙ্গ ছবি–ভিডিও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে কিনা—সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনায় শুধু মসজিদের ভেতরই নয়, বরং আশেপাশের প্রধান ইবাদত স্থানগুলোকেও নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মুসল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ছবি তোলা ও ভিডিও রেকর্ডিং নিষিদ্ধের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী মুসল্লিদের মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেলফি, ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচারের প্রবণতা হজ ও ওমরাহর পবিত্রতা নষ্ট করছে। তাদের মতে, কঠোর নিষেধাজ্ঞা ইবাদতের প্রকৃত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, বিশেষ করে বিদেশি হজযাত্রীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে জীবনে একবারের এ পবিত্র সফরটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ছবি বা ভিডিও ছাড়াই সংরক্ষণ করা কঠিন হবে। তাদের দাবি, সীমিতভাবে হলেও কোন না কোন রূপে স্মৃতি ধারণের সুযোগ থাকা উচিত।
সরকারি নির্দেশিকা এখনো অপেক্ষমাণ
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নিষেধাজ্ঞার ধরন সম্পর্কে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু ঘোষণা করেনি। সাধারণত হজের ছয় মাস আগে প্রয়োজনীয় নিয়ম ও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। তাই ছবি–ভিডিও নিষেধাজ্ঞা কতটা কঠোর হবে কিংবা কোন কোন এলাকায় প্রযোজ্য হবে—তা জানতে অফিসিয়াল নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা হারামাইনের ইবাদতচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী নীতিমালা হিসেবে রূপ নিতে পারে।
২০২৬ সালের হজ্বকে ঘিরে আলোচিত সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা হজ ও ওমরাহর অভিজ্ঞতায় এক নতুন রূপ আনতে পারে। পবিত্র হারামাইনে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ হলে প্রযুক্তিনির্ভর ভ্রমণ সংস্কৃতি কমে গিয়ে ইবাদতের প্রকৃত গুরুত্ব ও গভীরতা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। তবে এটি স্মৃতি সংরক্ষণে সীমাবদ্ধতা তৈরি করবে বলেও অনেকের মনে আশঙ্কা। এখন সবাই অপেক্ষা করছে—সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য।

