চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের পরিচয় দিয়ে একদল দুর্বৃত্ত বিয়েবাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মুঠোফোন লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, আনোয়ারা উপজেলার জয়কালী বাজার এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর ও নববধূ রাতে বাড়ি ফেরেন। কিছুক্ষণ পরই নোহা মাইক্রোবাসে করে ১২–১৩ জনের একটি দল এসে নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হিসেবে পরিচয় দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকাত দলের পাঁচজন বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয় এবং বাকি আটজন ঘরের ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নারী-পুরুষকে আলাদা কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় দুই লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এ সময় অতিথিদের শরীর থেকে থাকা স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থানের পর একটি নোহা মাইক্রোবাস ও একটি অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ধাওয়া করার চেষ্টা করলে তারা অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায়।
ঘটনার সময় ডাকাত দল একটি এলজি বন্দুক এবং শটগানের দুটি গুলি ফেলে রেখে যায়। পরদিন দুপুরে কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী পরিদর্শনে গিয়ে এসব আলামত উদ্ধার করেন।
আরিফুল ইসলামের ভাই মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, তারা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে আমাদের সবাইকে আটকে ফেলে। ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র, নগদ টাকা এবং অতিথিদের স্বর্ণালংকার পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যায়। কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ জানান, বিয়েবাড়ি ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ডাকাতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী জোনের এসি মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

