সাদা ডিম নাকি লাল ডিম—কোনটিতে বেশি পুষ্টি, এই প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণাই সঠিক নয়। ডিমের খোসার রং মূলত মুরগির জাত ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে, পুষ্টিগুণের ওপর নয়। অর্থাৎ সাদা ও লাল—দুই ধরনের ডিমেই প্রায় একই পরিমাণ প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও ক্যালোরি থাকে।
বাজারে লাল ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকেই মনে করেন এতে পুষ্টি বেশি, কিন্তু বাস্তবে এই দামের পার্থক্য আসে উৎপাদন খরচের কারণে। গাঢ় রঙের মুরগি সাধারণত আকারে বড় হয় এবং বেশি খাদ্য গ্রহণ করে, ফলে তাদের ডিম উৎপাদনের খরচও বেশি পড়ে। অন্যদিকে সাদা পালকের মুরগি তুলনামূলক কম খায়, তাই সাদা ডিমের দাম কিছুটা কম হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের পুষ্টিগুণ নির্ভর করে মুরগির খাদ্য, পালন পদ্ধতি ও পরিবেশের ওপর। প্রাকৃতিকভাবে পালিত মুরগির ডিমে ভিটামিন ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে ডিমের কুসুমের রং যত গাঢ় হয়, তাতে সাধারণত ভিটামিন এ ও ক্যারোটিনের পরিমাণও তত বেশি থাকে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লাল ডিমে ওমেগা-থ্রি সামান্য বেশি থাকতে পারে, তবে এই পার্থক্য খুবই নগণ্য এবং সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে তেমন প্রভাব ফেলে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, একটি গড় ডিমে প্রায় ৭২ ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে, যা সাদা ও লাল—উভয় ডিমেই প্রায় সমান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিম কেনার সময় খোসার রঙ নয়, বরং ডিমের তাজা অবস্থা, উৎস এবং মুরগির খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুষ্টির দিক থেকে সাদা বা লাল—যেকোনো ডিমই নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়।

